ছোটবেলায় আমি ভাবতাম নারী মানেই আগাছা। এর জন্য অবশ্য দায়ী ছিলেন আমার বাবা। তার ইচ্ছে ছিলো তার প্রথম সন্তান মেয়ে হবে। আল্লাহর অশেষ রহমতে তাই হয়। তবে আমার বাবার প্রথম সন্তান জীবিত ছিলো তিন সেকেন্ড। সিজারের সময় ডাক্তারের অসাবধানতার জন্য ছুড়ির আঁচড় লেগে যাওয়ার কারণে মারা যায়। তারপর থেকেই আমার বাবা একটা ঘোরের মাঝে ছিলেন। তিনি নাকি প্রায়ই স্বপ্নে তার সেই মেয়েকে দেখতেন। তারপর যখন আমি হই বাবা বেশী একটা খুশী হন নি। বরঞ্চ রাগই করেছিলেন। তার সেই রাগের বলি হয়ে নয় বছর অব্দি আমাকে মেয়েদের জামা কাপড় পড়ে থাকতে হয়েছে। নাকটা না ফুটালেও ; দুই কান ফুটিয়ে স্বর্ণের দুলও পরিয়ে দিয়েছিলেন। ভাবুন এবার। একটা ছেলে মেয়েদের পোষাক পরে স্কুলে যাচ্ছে ; মাঠে ফুটবল খেলছে ; ছাদে উঠে ঘুড়ী উড়াচ্ছে ; গলিতে মার্বেল খেলছে। বন্ধুদের তিরস্কার ও টিটকারিও কম শুনছে না। আমার এই ফেক নারীত্বের অবসান ঘটে যখন আমি কানের দুল বিক্রি করে ছেলেদের শার্ট প্যান্ট কিনে এবং তা পরিধান করে ক্লাশ টিচারের মেয়ে তৃষাকে প্রপোজ করি। হারামী তৃষা ওর মাকে বলে দিয়েছিলো। ওর মা স্কুলের গভর্নিং বডির সামনে আমার বাবাকে ডেকে এনে যাচ্ছে তা বলে এবং ...